সর্বশেষ
কাগজ২৪ — অবিচল সত্যের পথে
সম্পাদকীয়

আজ শহীদ জেহাদের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ শহীদ জেহাদের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
-মাহবুব এইচ শাহীন

মত্যুর আগে জেহাদের দৃপ্ত উচ্চারণ, আমি এসেছিলাম সামরিক স্বৈর সরকার উৎখাতের জন্য। আমি মৃত্যু পথযাত্রী। আমি তার পতন দেখে যেতে পারলাম না। আমার মৃত্যু তখনই স্বার্থক হবে ও আমার আত্মা শান্তি পাবে, যখন আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈর সরকারের পতন হবে।

কে. এম. নাজির উদ্দিন জেহাদ ১৯৬৯ সনের ৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলাধীন নবগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । বাবা মৃত কে এম মাহমুদ এবং মা বছিরুনেচ্ছা । ১০ ভাই-বোনের মধ্যে জেহাদ নবম ।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় জেহাদ স্থানীয় সরকারি আকবর আলী কলেজে বিএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জেহাদ ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি ও উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন । নব্বইয়ের ১০ অক্টোবর বিএনপিসহ সাত দলীয় জোট রাজধানীর পল্টনে মহাসমাবেশের ডাক দিলে অকুতোভয় ছাত্রনেতা জেহাদ নিজ এলাকা থেকে ৬০ জন ছাত্র নিয়ে যোগ দেন সমাবেশে ।

নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অমর নাম । শহীদ জেহাদ নিজেকে উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে । তার এই মহিমান্বিত আত্মদানের ফলেই স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয় । শুরু হয় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা । নব্বইয়ের স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রের বিজয়ে তার অগ্রণী ভূমিকার জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি । কিন্তু অগণতান্ত্রিক অপশক্তি নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই । তারা চক্রান্তের কুটীল খেলায় রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । এই দুঃসময়ের নিষ্ঠুর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে কঠিন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করবে শহীদ জেহাদের আত্মদান । যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ সেদিন স্বৈরাচারীর বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন , সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য । আর তাতেই শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মা শান্তি পাবে ।

রক্তঝরা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার । শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ ঐ কর্মসূচিতে পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ সত্ত্বেও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বীরদর্পে অংশ নেন জেহাদ । একপর্যায়ে পুলিশ নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে জেহাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন । জেহাদের মৃত্যু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় । ঐ দিন গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য । তার রক্ত স্রোতের ধারা বেয়ে ওই বছরই সংঘটিত হয় গণঅভ্যুত্থান , পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের ।

নবগ্রাম কবরস্থানে চির নিন্দ্রায় শায়িত আছেন শহীদ জেহাদ ।

সম্পদনায়- মাহবুব এইচ শাহীন/প্রকাশক ও সম্পাদক/কাগজ২৪

আরও পড়ুন

সম্পাদকীয়

শাহ মোহাম্মদ ইমরান এর লেখা- বিচার চাই

বিচার চাই -শাহ মোহাম্মদ ইমরান প্রতিদিন বিকেলে অফিস থেকে ফিরবার পথে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের দেয়ালে আকা গ্রাফিতিতে মুগ্ধকে দেখি “ পানি লাগবে পানি”। আমি জানি মুগ্ধ শ…

সম্পাদকীয়

জন্ম ১৯৮১ সালে, অথচ দাবি—বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ; ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত।

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস…

সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নি…