সর্বশেষ
কাগজ২৪ — অবিচল সত্যের পথে
সম্পাদকীয়

একজন রাজীব এর জীবনী (২)

একজন রাজীব এর জীবনী (২)
দেবী গাফফার

বর্ষাকাল চারিদিকে পানি থৈ থৈ। অনেক খানি বিল পার হয়ে, লুঙ্গি মাথায় বেঁধে স্কুলে আসা-যাওয়া চলতে থাকে। রাস্তায় যাওয়ার পথে পিছনে বাচ্চারা, মানুষ বলাবলি করে। পালা বারেক, ঐ যে কাসেমের পালা বারেক।
জিদে ব্যথায় বর্ষার বিলের পানিতে মিশে যেতো অসহায় কিশোর বারেকের চোখের পানি।

বাবা কাসেম বড়ো ভালো মানুষ। মা হালিমা, যে মার কোন তুলনা নেই।
ক্লাস এইট এ উত্তীর্ণ হলো। একাকী জীবনের বোঝা টেনে এতদূর আসা। বন্ধু নেই, ভাইবোন নেই।
মা-বাবা যতই ভালো বাসুক মনের মধ্যে তুফান চলতে থাকে, আমি আসলে কার সন্তান? কে আমার মা-বাবা?

স্কুলে যাওয়ার পথে, দুমকি বাজারের কাছে এক মহিলা প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকেন। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে অপলকে বারেককে দেখতে থাকেন।

সহপাঠী আজম বলে, ঐ যে মহিলা দাঁড়িয়ে প্রতিদিন তোকে দেখে, উনি কে জানিস? বারেক বলে, জানি না তো। কে উনি? আজম বলে, উনিই তোর আসল মা।

সাথে সাথে আসমান জমিন এক হয়ে যায়। মাথা ঘুরতে থাকে।
স্কুলে না ঢুকে সমস্ত শক্তি দিয়ে বাড়ির দিকে দৌঁড়াতে শুরু করে।
মনে মনে বলতে থাকে, আমার মা একজনই আমার অন্য কোন মা নেই। নেই নেই। ঐ মুখ কোনদিন দেখতে চাই না।
ততদিনে বারেক নিজের জীবন কাহিনী শুনেছে।
ভাবতে থাকে, সেদিন যদি শিয়াল খেয়ে ফেলতো? এতিম খানায় কেনো
দিলো না? সারা জীবনের অপমান যেনো তীর হয়ে বুকে বিঁধতে থাকে।

এরই মধ্যে আজম এর সাথে বারেক এর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। টিফিন এর ছুটিতে আজম বাসায় নিয়ে যায়।
এক সময় বারেক বুঝতে পারে, আজমদের বাসায় না গেলে মন কেমন যেনো করে, অস্থির লাগে।
কারণ হলো, আজিজের ছোট বোনটা।
বার-চৌদ্দ বছরের এক প্যাঁচের শাড়ি পরা মেয়েটা, কখন যে সমস্ত মনপ্রাণ জুড়ে বসে আছে টেরই পাননি।
টিফিন এর সময় বাসায় গেলে, সাথে সাথে এক গ্লাস লেবুর শরবত এনে হাতে দিতো। কষ্ট করে আমড়া পেড়ে হাতে দিয়ে বলতো ‘খাইয়েন কিন্তু’।
বাধভাঙা ভালোবাসা এগিয়ে যেতে থাকে।
একা বারেক আগামীর স্বপ্ন বুনতে থাকে। এই বুঝি জীবনের সমস্ত গ্লানি মুছে যাবে।
টিফিন টাইমে একবার যাওয়া চাই, এক নজর দেখা চাই।

স্বপ্নেরা বারেকের সরল মনটা নিয়ে খেলতে থাকে।
ততদিনে আজম বুঝে ফেলে রোমিও-জুলিয়েট পার্ট টু দুমকিতে শুরু হতে যাচ্ছ।
বারেক বুঝতে পারে আজম কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে।
(বারেক এর বন্ধুর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)
দেখা যাক নিয়তি কোথায় নিয়ে যায়।
‘চলবে...’

একজন-রাজীব-এর-জীবনী-১

আরও পড়ুন

সম্পাদকীয়

শাহ মোহাম্মদ ইমরান এর লেখা- বিচার চাই

বিচার চাই -শাহ মোহাম্মদ ইমরান প্রতিদিন বিকেলে অফিস থেকে ফিরবার পথে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের দেয়ালে আকা গ্রাফিতিতে মুগ্ধকে দেখি “ পানি লাগবে পানি”। আমি জানি মুগ্ধ শ…

সম্পাদকীয়

রাজনীতিবিদদের ক্লান্তি নেই -শাহ মুহাম্মাদ ইমরান

রাজনীতিবিদদের ক্লান্তি নেই -শাহ মুহাম্মাদ ইমরান খবরের কাগজে দেখলাম পুরুষদের ১০০ মিটারে দৌড়ে বিশ্বের সেরা স্প্রিন্টার, উসাইন বোল্ট অসুস্থ। বিশ্বের দ্রুততম মানুষ…

সম্পাদকীয়

জন্ম ১৯৮১ সালে, অথচ দাবি—বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ; ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত।

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস…