সর্বশেষ
কাগজ২৪ — অবিচল সত্যের পথে
সম্পাদকীয়

একজন রাজীব এর জীবনী (অভিনেতা) (৬)

একজন রাজীব এর জীবনী (অভিনেতা) (৬)
দেবী গাফ্ফার

পেট্রো বাংলায় সম্মান এর সাথে কাজ চলতে থাকে।

এখানেও চলার পথে কাজী হায়াত সাহেব, পরিচালক সাত্তার সাহেব এর সাথে পরিচয় হয়।

কাজী হায়াত সাহেব এর খোকন সোনা ছবিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সাথে রাখে আল্লাহ মারে কে ছবিতে ও।
ছবির নামের সাথে জীবনের মিল খুঁজে পেলো যেনো।
পরিচালক মনে করলেন ফিল্ম এর নায়ক এর সাথে এই নাম মানানসই না।
জীবনের কি পরিহাস,আবার নাম পাল্টালো।
নাম হলো রাজীব।
এ-ই দুই ছবিতে নায়ক হিসেবে কাজ শুরু হলো।
রাখে আল্লাহ মারে কে দর্শক নিলো না।
খোকন সোনা মোটামুটি হিট।
সিনেমা করতে হলে, আর ও সময় দিতে হবে।চাকরি অভিনয় একসাথে হয় না।
চাকরিতে ইস্তফা দিলেন।

পরিচালক আবুল খায়ের সাহেব খেয়াল করলেন, তাঁর অভিনয় দক্ষতা আছে। ভরাট কন্ঠ, চোখের ব্যবহার দূর্দান্ত।
রাজীব সাহেবকে বুঝালেন, আপনি ভিলেন এর চরিত্র করলে ভালো করবেন।
রাজী হ'য়ে গেলেন।
বিদ্রোহী ছবিতে ভিলেন এর কাজ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
বিদ্রোহী ছবি,শুটিং এর প্রথম দিন।পরিচালক বললেনঃ সোহেল রানা সাহেব এর সাথে আপনার ফাইট।আপনি উনাকে মারবেন, উনি আপনাকে মারবেন।
ক্যামেরা চালু হলো।
রাজীব সাহেব এর এক ঠুসিতে পারভেজ ভাই ছিটকে পড়লেন।
সেটে হুলস্থুল, কোথাকার রাজীব ধরে আনা হয়েছে, ফাইট এর আগা মাথা জানে না। এমন অপ্রিতীকর কাজ কি করে হলো।পালাতে পারলে বাঁচে।
ওস্তাদ এর কাছে গেলেন ফাইট শিখার জন্য।
এ-ই সব ছবিতে তেমন কোন টাকা পয়সা পাননি।
রাজা বাজার,পরে নুর জাহান রোডে মেস এ থাকেন।
৮৩ সালের এপ্রিল এ আমার সাথে পরিচয়।
আমার কাজিন ওস্তাদ জাহাঙ্গীর সাহেব এর বাসায় বেড়াতে আসি।
ওখানেই আমাকে দেখেন।
ওস্তাদ এর কাছে ফাইট শিখতে আসেন।
সাথে ঘোড়া চালানো ও শিখেন।
যেদিন ফাইট শিখার ক্লাস থাকে না সেদিন ও এসে বসে থাকতেন, আমাকে এক নজর দেখার আশায়।

উনি আমার জন্য পাগল বুঝতে পারার পরেও আমার মধ্যে কোন প্রেম আসে না।
প্রতিদিন আসাটাও আমার জন্য ঝামেলা হয়ে যায়।
একমাস পর আমি কক্স বাজার চলে যাই।
ওস্তাদ এর বাসায় রাজীব সাহেব এর আসা থামে না।
আমার চাচী, যাকে আমি মেঝমা বলি,উনিও মেজোমা বলা শুরু করেন।
ছোট ভাই রহিম কে জিজ্ঞেস করেন,দেবীর কোন খবর আছে?
একই প্রশ্ন প্রতিদিন।
মেজোমার কাছে আমাকে বিয়ে করার কথা বলেন।
আমি রাজি না।
এভাবে দুই বছর পার হয়।এর মধ্যে উনি আমার সাথে দেখা করার জন্য কক্স বাজার যান।আমি বাসায় থেকে ও নাই বলতে বলি।
মন খারাপ করে চলে গেলেন।
দুই বছর প্রতিদিন একবার ওস্তাদের বাসায় আসতেন, একটিবার যদি আমার রাজী হওয়ার সংবাদ পান।
মেজোমা কক্স বাজার যান।আমাকে বুঝাতে থাকেন, রাজীব এর মতো ভালো মানুষ হয়না।পৃথিবীতে কেও নেই। একা মানুষ, তুই সুখি হবি।
এক সময় আমি রাজি হই আমি ঢাকা আসবো। তবে শর্ত আছে,
রাজীব সাহেব এর ইন্টারভিউ নিবো।
তারপর সিদ্ধান্ত নিবো ফিল্মের লোক বিয়ে করবো কি না।
৮৫ সাল,এক ছেলেকে দিয়ে এফডিসিতে খবর পাঠাই, আমি ওস্তাদের বাসায় আছি। যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমার সাথে যেনো দেখা করেন।
রাত একটা, তাজমহল রোডের বাসার সামনে বেবীট্যাক্সি থামে।
রক্তাক্ত সাদা সার্ট কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ নিয়ে রাজীব সাহেব কলিং বেল এ হাত রাখেন।

চলবে......

একজন-রাজীব-এর-জীবনী-১

একজন-রাজীব-এর-জীবনী-২

একজন-রাজীব-এর-জীবনী-৩

একজন রাজীব এর জীবনী-৪

একজন রাজীব এর জীবনী (অভিনেতা)-৫

আরও পড়ুন

সম্পাদকীয়

শাহ মোহাম্মদ ইমরান এর লেখা- বিচার চাই

বিচার চাই -শাহ মোহাম্মদ ইমরান প্রতিদিন বিকেলে অফিস থেকে ফিরবার পথে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের দেয়ালে আকা গ্রাফিতিতে মুগ্ধকে দেখি “ পানি লাগবে পানি”। আমি জানি মুগ্ধ শ…

সম্পাদকীয়

রাজনীতিবিদদের ক্লান্তি নেই -শাহ মুহাম্মাদ ইমরান

রাজনীতিবিদদের ক্লান্তি নেই -শাহ মুহাম্মাদ ইমরান খবরের কাগজে দেখলাম পুরুষদের ১০০ মিটারে দৌড়ে বিশ্বের সেরা স্প্রিন্টার, উসাইন বোল্ট অসুস্থ। বিশ্বের দ্রুততম মানুষ…

সম্পাদকীয়

জন্ম ১৯৮১ সালে, অথচ দাবি—বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ; ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত।

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস…