কাগজ২৪ — অবিচল সত্যের পথে

সেলিনা জাহান প্রিয়ার ছোট গল্প-ডালির মোড়

 

ছোট গল্প - ডালির মোড়

---------------------------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া

 

বাদল প্রতিদিন মেয়েটার পিছনে পিছনে আসে। গ্রামের রাস্তা কিন্তু বাদল অনেক দূরে থাকে কেউ তাতে কিছুই বলার নেই। একটা বাকে এসে মেয়েটা পিছন ফিরে দেখে বাদল ওর চোখের দিকে তাকিয়ে অন্য পথে হাটা দেয় । মেয়েটির নাম ডালিয়া। সবাই ডালি ডাকে। বাদল কিছুই করে না। এস এস সি তে নকল করতে যেয়ে ধরা পড়ে লিখা পড়া শেষ। ডালির আজ বিয়ে হয়ে যাবে।

ডালির বাড়ির সামনে এসে পুকুর ঘাটে পা ধুয়ে ডালির বাড়িটার দিকে চেয়ে দেখে। একটা লিছু গাছ তলে একা একা অপেক্ষা করে। ডালি চলে যায় স্বামীর ঘরে। বাদল শেষ বার দেখে যখন তাকে গাড়িতে তুলে সেই পথের বাকে গাড়ি আসতেই ডালি পিছন ফিরে তাকায়। বাদল সেই বাকে চেয়ে থাকে মেয়েটির চোখের দিকে। বাদল বুঝতে পারে আজ ডালির চোখের ভাষা। এই বাকে একটা নতুন রাস্তা মিশেছে। বাদল এই বাকে একটা চায়ের দোকান দেয়। আর সাইন বোর্ডে লিখে ডালির মোড় চায়ের দোকান। কেটে যায় ৪০ বছর। রাস্তাটা পাকা হয়েছে। এই মোড়ে অনেক দোকান। সবাই এই জায়গাটা কে ডালির মোড় বলে চিনে। বাদলের বয়স এখন ৬২ বছর। একদিন ডালিয়া তার ছেলে মেয়ে নাতি নিয়ে নতুন রাস্তা দিয়ে আসে। ডালিয়ার ছোট ভাই বলে আমাদের নতুন বড় পাকা রাস্তার মোড়টার নাম ডালির মোড়। ডালিয়া বলে বাহ! ডালির মোড় কেন? তা তো জানি না। তবে একটা চায়ের দোকান লিখা ছিল ডালির মোড় চায়ের দোকান। ডালির সেই মোড়ে আসতেই ডালিয়ার আজ ও আবার মনে পড়ে গেল সেই পিছন ফিরে দেখার কথা। কিন্তু সময় কত বদলে গেছে। লোকটা জানি কেমন আছে। কত রোদ বৃষ্টি তে পিছু পিছু আসত। বাদলের চায়ের দোকান এখন অনেক বড় হোটেল। গাড়িটা মোড়ে আসতেই ডালিয়া বলে একটু মাইক্রো টা থামা। গাড়ি থেকে নামে মোড়টা ভাল করে দেখে। হোটেলের ক্যাশে বসা বাদল মিয়া চেয়ে দেখে একজন মহিলা কি জানি খুজছে? বাদল সিট থেকে নেমে কাছে আসে। চিনতে কোন অসুবিধা হয় নাই। কাছে যেয়ে সালাম দেয়। ডালিয়া বলে অলাইকুম আসসালাম। দুই জনেই কিছুটা সময় চুপ থাকে। এক সময় হেসে দেয়। বাদল বলে আমার হোটেলে কিছু না খেয়ে যেতে পারবে না। ছেলে ছেলের বউ। মেয়ে মেয়ের জামাই, নাতি নাতনী নিয়ে নামে। বাদল মিয়া একটা বড় মিষ্টির বল ডালিয়ার মোড়ের সবাইকে বিলিয়ে দেয়। সবাই জানতে চায়। কি বাদল মিয়া ঘটনা কি? বাদল সবাইকে বলে যার নামে এই মোড় সেই লক্ষ্মী এই মোড়ে আসছে। সবাই অবাক হয়। বাদল বলে আমাকে একদিন ডালিয়া বলেছিল বেকার না থেকে এই মোড়ে একটা চায়ের দোকান
দাও। আমি তার কথা রাখছি মাত্র। কি নাম দিব, তাই ডালিয়ার নামে দিলাম ডালির মোড়।

ডালিয়া বিদায় নেয়। যাওয়ার পথে আবার আসে। গাড়ি থেকে নেমে বলে বাদল আমি যাই। আজো কিন্তু ডালিয়ার চোখে সেই দিনের মত পানি। ডালিয়া এখন সাত সমুদ্রের ওপারে থাকে- ক্যানাডা ছেলের সাথে। যাওয়ার সময় বাদলের দিকে চেয়ে সাদা কাপড়ে সুধু চোখ মুছে। বাদল মিয়া সাদা দাড়ি তার চোখর পানিতে ভিজে।।

Indian Lady in Sari - Date Unknown

আরও পড়ুন

সাহিত্য

জি. আর. হায়দার এর কবিতা- স্বদেশে প্রত্যাবর্তন

স্বদেশে প্রত্যাবর্তন -জি. আর. হায়দার নীরব প্রহর গুনে গুনে কেটেছে কত দিন, প্রবাসী বুকের গভীরে জমে ছিল অগ্নিঋণ। জুতো খুলে খালি পায়ে মাটি ছুঁই মুগ্ধ মন, অনুভূতির ব…

সাহিত্য

মোহাম্মদ গোলামুর রহমান এর কবিতা- মেঘে ঢাকা নীল আকাশ

মেঘে ঢাকা নীল আকাশ -মোহাম্মদ গোলামুর রহমান মেঘে ঢাকা নীল আকাশ ডুবন্ত শেষ বেলা— নিরব নিভৃতে কাঁদে মন ভেঙে যায় রে মেলা। বড় মানুষের কথা বড় মেনে নিতে হয়— ভালমন্দ যা…

সাহিত্য

মোহাম্মদ গোলামুর রহমান হায়দার এর কবিতা- সময়ের পরশ

সময়ের পরশ -মোহাম্মদ গোলামুর রহমান হায়দার পৃথিবীর বুকে জড়িয়ে রাখা — কিছু মুহূর্ত কয়, হাসি–কান্নার দ্বারপ্রান্তে — তোমার স্পর্শ রয়। গোধুলিতে রঙের আঁধার — ছায়া না…